গাজায় একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে অন্তত ২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন শিশু। গতকাল রাতে ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে মাটি সরানোর চেষ্টা করছেন। গাজা শহরের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তাই সেখানে জীবিতদের উদ্ধারের আশা রয়েছে।
যে ভবনটি ধসে পড়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় সেটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে বাস্তুচ্যুত কয়েকটি পরিবার সেখানে আশ্রয় নেয়।
ইসরায়েলি হামলায় গাজার বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন তাঁবুর সংকট এবং ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গাজা কার্যালয়ের প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিচ বলেন, উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীদের খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, গাজায় প্রায় ৪০০টি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শীত মৌসুম সামনে আসায় এসব ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। চুক্তির পর গাজায় বড় ধরনের সংঘাত অনেকটা কমে এলেও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, এ সময়ে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন।
Leave a comment