বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলিমের পরম পবিত্র স্থান কাবা শরিফবেষ্টিত মক্কা নগরীতে প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের মে মাসের হজ মৌসুমে প্রায় ১৭ লাখ মুসল্লি এবং গত বছরের শেষভাগে রেকর্ড ১ কোটি ১৭ লাখেরও বেশি মানুষের ওমরাহ পালনের মধ্য দিয়ে গমগম করা এই পবিত্র ভূমিতে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে এমন অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ইয়েমেনের প্রতিরোধকামী হুতি বাহিনীর পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই নিরাপত্তাজনিত তোলপাড় শুরু হয়। হুতিদের ছোড়া ডজন ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে সৌদি তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হওয়ার খবর মিলেছে। একই সাথে লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুতিদের নতুন করে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিবেশী কাতার।
সার্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পবিত্র মক্কা ও সংলগ্ন এলাকায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ব্যাহত হওয়া বা নতুন কোনো বিধিনিষেধ আসবে কি না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও রিয়াদ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা স্থগিতাদেশ আরোপ করা হয়নি এবং স্বাভাবিক নিয়মেই ধর্মীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা সামাল দিতে সৌদি আরব মার্কিন সহায়তার আশা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতে নতুন করে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির বাড়তে থাকা ঝুঁকি এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আঞ্চলিক স্তরেই বিকল্প সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব।
Leave a comment