যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। ১৯৮৭ সালে ২০ বছর বয়সী মেলিসা ‘মিসি’ টেলর এলিসনকে হত্যার ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী গ্যারি গ্লোওয়াচ পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় ফোন করে দায় স্বীকার করেছেন।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে নিজ বাড়ির শোবার ঘর থেকে মেলিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই রুমমেট মরদেহটি দেখতে পান। পাশের ঘরে তখন কাঁদছিল মেলিসার ১৩ মাস বয়সী শিশুকন্যা ক্যাসি। ময়নাতদন্তে জানা যায়, মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে মেলিসাকে হত্যা করা হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তেও তখন কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরে চলতি বছরের ৮ জুলাই ক্লে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে ফোন করেন গ্লোওয়াচ। তিনি জানান, বহু বছর আগের একটি অপরাধের বিষয়ে ‘সবকিছু পরিষ্কার’ করতে চান। পরে জ্যাকসনভিল শেরিফের গোয়েন্দাদের কাছে তিনি হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
গ্রেপ্তারি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় গ্লোওয়াচের বয়স ছিল ৩২ বছর। মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে তিনি মেলিসার বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিলেন। জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে মেলিসাকে শিশুকন্যাসহ ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে শিশুটিকে পাশের ঘরের সোফায় রেখে তিনি টাকা খুঁজতে থাকেন।
তদন্তকারীরা জানান, গ্লোওয়াচ এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এতে তার স্বীকারোক্তির সত্যতা সম্পর্কে তারা অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছেন। গ্লোওয়াচের দাবি, চলতি বছরের মার্চে একটি প্রতিবেদন পড়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, তার আঘাতেই মেলিসার মৃত্যু হয়েছিল।
বর্তমানে গ্লোওয়াচকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা ও সশস্ত্র চুরির অভিযোগে ডুভাল কাউন্টি জেলে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।
মেলিসার মেয়ে ক্যাসি এলিসন এখন চল্লিশোর্ধ্ব। মায়ের হত্যার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ মাস। ২০১৯ সালে মেয়ের হত্যার রহস্যের সমাধান না দেখেই মারা যান মেলিসার মা ক্যাথরিন টেলর।
২০১৮ সালে মামলাটি ‘প্রজেক্ট: কোল্ড কেস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠনের কাছে দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংগঠনটি ও মেলিসার পরিবার খুনিকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। জ্যাকসনভিল শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, ওই সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনই গ্লোওয়াচকে স্বীকারোক্তি দিতে উদ্বুদ্ধ করে।
গ্লোওয়াচ গ্রেপ্তার হলেও মেলিসার পরিবার এখনো পুরোপুরি ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছে না। তবে প্রায় চার দশক পর হত্যার সন্দেহভাজনের পরিচয় সামনে আসাকে তারা দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে
Leave a comment