ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিআইডি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. ফখরুল ইসলাম (৪২) নামের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) মৃত্যু হয়েছে। তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গভীর রাতে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত সিআইডি অফিসে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন এএসআই ফখরুল। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখে সহকর্মীরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রাত সোয়া ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ওই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তীব্র কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তাঁর অকাল মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সিআইডিতে কর্মরত এএসআই ফখরুল ইসলামের এমন আকস্মিক প্রয়াণ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক। জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতের মরদেহ স্বসম্মানে কুমিল্লায় তাঁর নিজ গ্রামে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মৃত মো. ফখরুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার পাঁচথুবি ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মৃত সানাউল হকের ছেলে। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালন অবস্থায় এই পুলিশ কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী ও জেলা পুলিশ সদস্যদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment