খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
ভোরের সূর্য ওঠার আগে এবং গোধূলি বেলায় কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পাহাড়ঘেরা খাগড়াছড়ির বন রেঞ্জ অফিসপাড়া। গাছের ডালপালাজুড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে বসবাস করছে ‘মদনা টিয়া’ বা লাল-বুক টিয়া পাখি। স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘টিয়ার গ্রাম’ নামে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আকাশমণি, বট, পাকুড়, মেহগনি, জাম, জারুলসহ বিভিন্ন বড় গাছে এসব টিয়া পাখি আশ্রয় নিয়ে আসছে। ভোরে তারা খাদ্যের খোঁজে দূর-দূরান্তে চলে গেলেও সন্ধ্যার আগে আবার দলবদ্ধভাবে ফিরে আসে এই এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন চাকমা বলেন, শুরুতে এত পাখি দেখে তারা অবাক হয়েছিলেন। এখন এটি প্রতিদিনের দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা ও ভোরে এখানে দাঁড়ালে মনে হয় যেন পাখিদের অভয়ারণ্য।
খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন জানান, টিয়া পাখিগুলো দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। শিকার বা উৎপাত থেকে সুরক্ষার জন্য এলাকায় সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি পাখিদের খাদ্যের জন্য বিভিন্ন ফলদ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
বায়ো-ডাইভার্সিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটি’র সদস্য সমীর মল্লিক বলেন, লোকালয়ের আশপাশে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ থাকায় টিয়ারা এখানে আশ্রয় নেয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ‘মদনা টিয়া’ বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত প্রজাতি। এদের সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও খাদ্য উপযোগী গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Leave a comment