উগান্ডার বিরোধীদলীয় নেতা কিজা বেসিগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানির সময় আদালতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন।
৭০ বছর বয়সী বেসিগে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসে তাঁর প্রধান আইনজীবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শুনানির সময় রাষ্ট্রনিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনার বিরোধিতা করেন বেসিগে।
এ সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে আদালতের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কারারক্ষীরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
বেসিগের স্ত্রী জানান, তিনি কিছু সময় অচেতন ছিলেন। কথা বলতে পারছিলেন না এবং ব্যথার প্রতিও কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না।
কিজা বেসিগে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসেভেনির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২৪ সালে তাঁকে কেনিয়া থেকে আটক করে উগান্ডায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর সহযোগী ওবেইদ লুতালে কারাগারে রয়েছেন।
সরকারের অভিযোগ, তাঁরা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তবে বেসিগে ও লুতালে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উগান্ডার আইনে রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
বেসিগের স্ত্রী আরও জানান, শুরুতে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
প্রথমে বেসিগেকে রাজধানী কাম্পালার সরকারি মুলাগো ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। সেখানে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে বেসিগের প্রধান আইনজীবী এরিয়াস লুকওয়াগো গত মাসে সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আরেক আইনজীবী ও কেনিয়ার রাজনীতিক মার্থা কারুয়াকে বেসিগের আইনি সহায়তার জন্য উগান্ডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বেসিগের অসুস্থতার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বুধবার (২৯ জুলাই) তাঁর ছেলে অ্যাডাম আম্পা মানবিক কারণে বাবার মুক্তি চেয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি ও সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবার কাছে আবেদন জানান।
আটকের পর এর আগেও কয়েকবার বেসিগেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আটক অবস্থায় অনশন করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতেও তাঁকে স্বল্প সময়ের জন্য চিকিৎসা নিতে হয়।
উগান্ডার বিরোধীদলীয় নেতা ববি ওয়াইন বলেছেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেসিগেকে আদালতে হাজির করা তাঁর মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। একসময় কিজা বেসিগে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তবে ১৯৯৯ সালে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি তুলনামূলক কম সক্রিয় ছিলেন এবং ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেননি।
সূত্র: রয়টার্স
Leave a comment