মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। এর জের ধরে দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে করাচির রাজপথে নেমেছেন শত শত হিজড়া ও তাঁদের সমর্থকেরা। অনগ্রসর ও অর্থনৈতিকভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই তাঁরা নিজেদের অধিকার ও বাঁচার আকুতি নিয়ে সোচ্চার হলেন।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী আইনি কিছু স্বীকৃতি পেলেও সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক অবহেলা এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব এখনো কাটেনি। এর ফলে তাঁদের বড় একটি অংশকে জীবনধারণের জন্য ভিক্ষাবৃত্তির মতো অনিশ্চিত ও অপমানজনক পথ বেছে নিতে হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বন্দ্বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানের বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়েছে। ফলে দৈনন্দিন খাদ্যপণ্য ও বাসাভাড়া সাধারণের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
করাচির রাজপথে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া রূপান্তরকামীরা বিভিন্ন ক্ষোভপূর্ণ স্লোগান দেন এবং দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, থালা আমাদের খালি।” সরকারের অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়টি টেনে এক বিক্ষোভকারী লেখেন, “আমরা রাজপথে ভিক্ষা করি, আর তোমরা ভিক্ষা করো আইএমএফের কাছে।”
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, নিত্যপণ্যের বাজার এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মিছিলে অংশ নেওয়া মানবাধিকারকর্মী শাহজাদী রাই আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন ধারণ করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে, সেখানে অবহেলিত রূপান্তরকামী জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। তাঁরা অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দাবি করেছেন।
Leave a comment