সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।
হবিগঞ্জের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আমরা চাই দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মত প্রকাশ করবে। তবে মতপ্রকাশেরও একটি সভ্য মান থাকা উচিত। সভ্য ভাষা ও শব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত উসকানিমূলক বক্তব্য, অশ্রাব্য ভাষা ও মিথ্যা অপপ্রচার গণতন্ত্রের বিকাশ এবং একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে কখনোই সহায়ক হতে পারে না। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে সংযম, সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে। একই সঙ্গে এমন আচরণ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে পারস্পরিক আলোচনা, সমালোচনা ও মতবিনিময় কোনোভাবেই সংঘাত বা বিভেদের দিকে না যায়।’
রিজভী বলেন, ‘১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তরুণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দীর্ঘ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বাক্স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যে রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতা, শ্রমিক ও সর্বস্তরের মানুষের ঐতিহাসিক গণজাগরণ গড়ে ওঠে।’
রিজভীর ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ৫ আগস্ট, যেদিন স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। ৩৬ দিনের ওই আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে গত বছরের মতো এবারও বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
তিনি জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৪ আগস্ট রাজধানীর কেআইবিতে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
Leave a comment