রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বুধবার উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়ে সংগঠনটি গত ২৭ জুলাই সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
আবেদনে বলা হয়, ২৭ জুলাই রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। পরে হামলার শিকার ইতিহাস বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের অভিযোগ, প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত ব্যক্তিকে নামিয়ে আবার মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মতে, এসব ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
আবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে ‘মব জাস্টিস’ করা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক আরও দাবি করে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের পর থেকে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তাঁর সহযোগীরা বারবার এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
আবেদনের শেষাংশে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, অতীতে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের, কোনো ছাত্রসংগঠন বা রাকসুর নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a comment