বুক ও পেট জোড়া লাগা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বহুল আলোচিত যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেছে নিষ্পাপ দুই বোন। সরকারের শতচেষ্টা ও চিকিৎসকদের আপ্রাণ লড়াই সত্ত্বেও শিশু দুটির এমন অকালমৃত্যুতে পরিবার ও এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) জন্ম নেয় দুই বোন। জন্মের পর থেকেই তারা বুক থেকে পেট পর্যন্ত পরস্পর যুক্ত ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা নজর কাড়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। পরবর্তীতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকার এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের সদস্য জাহিদ হোসেন জানান, চিকিৎসকদের সুবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় গত বুধবার দুপুরের পর থেকে শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হতে শুরু করে। দ্রুত তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তারা। সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর বাবা নাহিদ হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, আমরাও অনেক বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে নিজের কাছে তুলে নিলেন।” প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুলও শিশু দুটির মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাতেই দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
Leave a comment