সূর্য ও চন্দ্র মহান রাব্বুল আলামিনের অপরিসীম কুদরতের বিশেষ নিদর্শন। মহাকাশের এসব মহাজাগতিক ঘটনা নিছক কোনো কৌতূহল বা বিনোদনের বিষয় নয়; বরং তা মানুষকে আল্লাহর মহাশক্তি ও সার্বভৌমত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই সূর্যগ্রহণের সময়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিতি জাহির করা, সালাত আদায়, তওবা-ইস্তিগফার ও জিকির-আজকারে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, “তিনিই আল্লাহ, যিনি সূর্যকে তেজোদীপ্ত এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন…।” (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন-সূর্য ও চন্দ্র কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না; বরং এগুলো আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন। তাই গ্রহণ প্রত্যক্ষ করলে মুমিনের কর্তব্য হলো বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, তাকবির বলা, নামাজ আদায় ও দান-সদকা করা। সূর্যগ্রহণ শুরু হলে দুই রাকাত ‘সালাতুল কুসুফ’ বা গ্রহণের নামাজ আদায় করা সুন্নত। সাধারণ নফল নামাজের মতো হলেও এতে দীর্ঘ কিরাত, রুকু ও সিজদা করা উত্তম। নারীরা নিজ ঘরে একা একা এ নামাজ আদায় করতে পারবেন।
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা কিছু কাটাকাটি বা খাবার গ্রহণ করলে গর্ভস্থ শিশুর অঙ্গহানি বা ঠোঁটকাটা-কানকাটা হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিতে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, প্রামাণ্যহীন ও সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। ইসলামে এসব অন্ধবিশ্বাসের কোনো স্থান নেই। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে খালি চোখে গ্রহণ দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা চোখের রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা থেকে বিরত রাখা ও সোলার সেফটি গ্লাস ব্যবহারে সচেতন করা জরুরি।
মূলত সূর্যগ্রহণ মুমিনদের জন্য আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের কথা স্মরণের এক বিশেষ মাধ্যম। অনর্থক কৌতূহল বা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন না হয়ে এ সময়ে আল্লাহর জিকির, নামাজ, চোখের পানি ফেলে তওবা করা এবং অভাবগ্রস্তদের দান-সদকা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়াই একজন খাঁটি মুসলিমের প্রধান দায়িত্ব।
Leave a comment