থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে মাঝআকাশে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। তীব্র টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে বিমানটি আকস্মিকভাবে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানজুড়ে প্রচণ্ড আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং কেবিনের ভেতরে থাকা ২৪ জন যাত্রী ও ক্রু গুরুতর আহত হন। তবে দুর্ঘটনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য—বিমানটির প্রধান ক্যাপ্টেনের শরীরে মিলেছে মাদক বা গাঁজার উপস্থিতি।
১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্য নিয়ে ফ্লাইটটি দিল্লির দিকে যাত্রা করেছিল। মাঝপথে হঠাৎ বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চতা হারিয়ে ফেলার দরুন চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সিটবেল্ট না বাঁধা অনেক যাত্রী ছিটকে গিয়ে কেবিনের ছাদে আঘাত পান। আহত ২৪ জনের মধ্যে দুইজনের মেরুদণ্ড ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। পরবর্তীতে দিল্লিতে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করার পর নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে ক্যাপ্টেনের ডোপ টেস্টে সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। দুই দফার চিকিৎসাতদন্তেই তাঁর গাঁজা সেবনের ফলাফল পজিটিভ আসে।
তদন্তে উঠে আসা তথ্যে আরও জানা যায়, বিমানটি যখন হুট করে ৩০০ ফুট নিচে নেমে আছড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন অভিযুক্ত ক্যাপ্টেন ককপিটে নিজ আসনে ছিলেন না। সেই সময় উড়োজাহাজটি ফার্স্ট অফিসারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফ্লাইট নিরাপত্তা বিধান অমান্য করে উড্ডয়নকালে পাইলটের মাদক সেবনের এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটিকে চরম গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (এএআইবি)। ককপিটের ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং আকস্মিক উচ্চতা হারানোর পেছনের মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চালকের পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এবং দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
Leave a comment