সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে বাড়ির মালিক আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী এবং এক তরুণীর গলা কাটা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনের পৈশাচিক মরদেহের সন্ধান পাওয়ার পর স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। উদ্ধার হওয়া তরুণী গৃহকর্মী নাকি আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে- এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও ঘটনাটি পুরো সিলেটে প্রচণ্ড চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
খবর পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে ওই আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের সর্বশেষ তথ্যমতে, ঘাতকেরা পরিকল্পিত ও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছে। ঘটনার পর বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লক ভাঙা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আততায়ীরা বাথরুমে হাত-মুখ পরিষ্কার করে সটকে পড়ে। প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে সকালে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে তিনজনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে প্রাথামিকভাবে অনুমান করছে পুলিশ।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্য ছিল—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম জোর অভিযানে নেমেছে।
Leave a comment