দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়। এর পরপরই নিয়মানুযায়ী বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলীয় সিদ্ধান্তে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী, আজকের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে তাঁর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া এই পদে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করা মির্জা ফখরুল বর্তমানে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় তিনি একদিকে যেমন দলীয় দায়িত্ব ছেড়েছেন, তেমনই পরবর্তী আইনি ধাপ হিসেবে তাঁর মন্ত্রীত্ব ও সংসদ সদস্যপদ ছাড়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ইতোমধ্যে তাঁর মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ১৯৯১ সালের পর দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পুনর্নির্বাচিত প্রক্রিয়ায় সরাসরি রাষ্ট্রপতি পদে সংসদীয় ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।
Leave a comment