নীলফামারীর ডিমলায় জরাজীর্ণ কাঠের সেতু পরিদর্শনে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। সাঁকো পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত মানুষের চাপে এর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী ভারসাম্য হারিয়ে নদীর ধারে পড়ে গেলেও অল্পের জন্য রক্ষা পান নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। এ ঘটনায় কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে গুরুতর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে ডিমলা উপজেলার ৩ নম্বর ডিমলা ইউনিয়নের নটাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নটাবাড়ী গ্রামের সঙ্গে নাউতারা ইউনিয়নের যোগাযোগের জন্য থাকা কাঠের সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবিও দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাঁকোটির অবস্থা সরেজমিনে দেখতে এবং নতুন সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা-কর্মী ও গ্রামবাসী ছিলেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে সাঁকোটির ওপর একসঙ্গে অনেক মানুষ উঠে পড়লে একটি অংশ হঠাৎ মচকে ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী ভারসাম্য হারিয়ে নদীর ধারে পড়ে যান। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করেন। এ সময় সংসদ সদস্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়লেও নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন।
ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মজিবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ সেতু হওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এমপি মহোদয় সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে আছেন।’
পরে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আজকের এই ঘটনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হলো, গ্রামের মানুষ কত কষ্ট করে যাতায়াত করছেন। নটাবাড়ী-নাউতারা নদীর ওপর দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ এবং কাঁচা রাস্তা পাকাকরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
Leave a comment