Home আন্তর্জাতিক শত বছর পর সৌদির মরুভূমিতে জন্ম নিল পারস্যের বন্য গাধার শাবক
আন্তর্জাতিক

শত বছর পর সৌদির মরুভূমিতে জন্ম নিল পারস্যের বন্য গাধার শাবক

Share
Share

সৌদি আরবে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো পারস্যের বিলুপ্তপ্রায় ওনাগার বা এশীয় বন্য গাধার একটি শাবকের জন্ম হয়েছে। দেশটির বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি পুনরুদ্ধার এবং আরব উপদ্বীপের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংরক্ষণবাদীরা।

সম্প্রতি আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু জালুমিস আরব নিউজকে বলেন, এক হাজার বছরেরও বেশি আগে আরব কবিদের কবিতায় যে বন্য প্রাণীর বর্ণনা পাওয়া যেত, প্রায় এক শতাব্দী পর সেই প্রাণী আবার সৌদি আরবের মরুভূমিতে ফিরেছে। তাঁর মতে, এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি প্রাণীর ফিরে আসা নয়; এটি প্রকৃতি ও জীবনের স্বাধীনতার প্রতীক।

রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ প্রকল্পের আওতায় এ সাফল্য এসেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে জর্ডানের শওমারি ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাতটি ওনাগার সৌদি আরবে আনা হয়। প্রায় ১১ মাসের গর্ভধারণের পর ২০২৫ সালের জুনে একটি পুরুষ শাবকের জন্ম হয়।

জন্মের প্রথম বছর ওনাগার শাবকের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শাবকটি এক বছর সফলভাবে পার করার পর সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ তার জন্মের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

পারস্য ওনাগার ইকুয়াস হেমিওনাস প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত একটি বন্য প্রাণী। বর্তমানে বিশ্বে ৬০০টিরও কম পারস্য ওনাগার টিকে আছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ প্রজাতির সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে অতিরিক্ত শিকার ও আবাসস্থল হারানোর কারণে বিশ শতকের শুরুর দিকে একই গোত্রের সিরীয় ওনাগার বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সংরক্ষণবাদীদের মতে, ওনাগারের বংশবৃদ্ধি শুধু একটি প্রাণীর সংখ্যা বাড়ার ঘটনা নয়। এটি ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ওনাগারের বিচরণে রয়্যাল রিজার্ভের উন্মুক্ত প্রান্তর ও স্থানীয় উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরতে সহায়তা করছে।

বর্তমানে সৌদি আরবের ওই পালটিতে পাঁচটি স্ত্রী ও তিনটি পুরুষ ওনাগার রয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্ত্রী ওনাগার আবার গর্ভবতী হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির স্থলভাগের ৩০ শতাংশকে প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা। দীর্ঘমেয়াদে আরবীয় চিতাবাঘ ও সিংহের মতো হারিয়ে যাওয়া প্রধান শিকারি প্রাণীকেও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

শেষকৃত্যেও এল না চার সন্তান, সম্পত্তি ভাগ শেষে বাবার ডেথ সার্টিফিকেট চান পাষাণ ওয়ারিশরা

সন্তানদের মানুষ করতে নিজের সমস্ত সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন এক দুর্ভাগা পিতা। জীবনের শেষভাগে এসে সেই চার সন্তানের কাউকেই পাশে পেলেন না তিনি। দীর্ঘ...

এসএসসিতে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য, চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর আদনানুজ্জামান নিহাল (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে...

Related Articles

মোদির সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ...

উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ড পর আকাশেই বিস্ফোরিত চীনের রকেট

মহাকাশের উদ্দেশে উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মাথায় আকাশেই বিস্ফোরিত হয়েছে চীনের একটি রকেট।...

শেষকৃত্যেও এল না চার সন্তান, সম্পত্তি ভাগ শেষে বাবার ডেথ সার্টিফিকেট চান পাষাণ ওয়ারিশরা

সন্তানদের মানুষ করতে নিজের সমস্ত সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন এক দুর্ভাগা পিতা। জীবনের...

ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি করা নিয়ে নালসারে শিক্ষার্থীদের আপত্তি

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড...