উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মরক্কোর ইতিহাসে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দেশটিতে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। উত্তর আফ্রিকার এই রাজতন্ত্রের নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও মারাকেশের সাবেক মেয়র ৫০ বছর বয়সী বিশিষ্ট আইনজীবী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
রাজপ্রাসাদের এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম)-র প্রভাবশালী এই নেত্রীকে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মরক্কোর জটিল নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো একক দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হওয়ায়, ফাতিমা মানসুরিকে শিগগিরই অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে একটি নতুন জোট সরকার গঠন করতে হবে। মানসুরির এই নিয়োগের মাধ্যমে তিউনিসিয়ার নাজলা বাউদেনের পর সমগ্র আরব বিশ্বে দ্বিতীয় কোনো নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
সংবিধান অনুযায়ী মরক্কোর সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক রাজা হলেও ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর থেকে নির্বাচনে সর্বোচ্চ বিজয়ী দলের প্রতিনিধিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান চালু হয়। ২০০৮ সালে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করা মানসুরি ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশায় আইনজীবী মানসুরি পরবর্তীতে দুই মেয়াদে মারাকেশ শহরের মেয়র ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মারাকেশের সাবেক পার্শ্বপতি আবদের রহমান এল মানসুরির কন্যা। উল্লেখ্য, বিগত নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ ভোটারের মধ্যে শীর্ষ ভোট পেয়ে মানসুরির দল প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক এই বিজয় অর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ২০৩০ সালের যৌথ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কয়েক বিলিয়ন ডলারের মেগা অবকাঠামোগত বিনিয়োগ তদারকি করা। সেই সাথে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের যে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন, তা বাস্তবায়ন করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।
Leave a comment