চার ভাই-বোনের মধ্যে রবিন সবার বড়। তাঁর ছোট তিন বোন। শিক্ষাজীবনে অর্থনীতির ছাত্র হলেও পেশাগত জীবনে আইটি খাতে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর একটি ডিজাইন এজেন্সি রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেন।
ওয়েবসাইটটির নির্মাতা রবিন বলেন, সুযোগ পেলেই তিনি ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। নতুন জায়গা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া, মানুষ ও প্রকৃতির স্বাভাবিক ছুটে চলা কাছ থেকে দেখা তাঁর ভালো লাগে। নতুন নতুন জেলা ঘুরতে ঘুরতে একসময় তাঁর মনে হয়, বাংলাদেশের কতগুলো জেলা ঘোরা হয়েছে, তা যদি একটি ম্যাপে তুলে ধরা যায়, তাহলে ভালো হয়।
রবিন বলেন, ‘প্রথমে চ্যাটজিপিটি দিয়ে নিজের মতো করে ম্যাপ বানাতাম। কিন্তু প্রতিবার নতুন কোনো জেলা ঘুরে আসার পর আবার প্রম্পট দিয়ে নতুন করে ম্যাপ বানাতে হতো। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ও একঘেয়ে ছিল। পাশাপাশি নতুন কোনো জেলায় যাওয়ার আগে দর্শনীয় স্থানগুলোর ইতিহাস, কীভাবে যেতে হবে, কোন বাস বা ট্রেনে যাওয়া যাবে—এসব তথ্য কখনো এআই, কখনো গুগল থেকে আলাদাভাবে খুঁজতে হতো। এমন কোনো সাইট বা অ্যাপ পাইনি, যেখানে সব তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়। যেহেতু আমি আইটি খাতে কাজ করি, তখন মনে হলো, এআইয়ের সাহায্যে আমি নিজেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারি।’
যেভাবে ব্যবহার করবেন
নিজের তৈরি ওয়েবসাইটের ব্যবহার সম্পর্কে রবিন বলেন, সাইটটি ব্যবহার করা সহজ। কোনো অ্যাপ ইনস্টল বা অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। এটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। ফোন বা কম্পিউটারের যেকোনো ব্রাউজার থেকে unseenbangladesh.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই এটি ব্যবহার করা যাবে।
সাইটে মূলত তিনটি সুবিধা রয়েছে। প্রথমটি ‘আমার ম্যাপ’। এখানে ব্যবহারকারী যে জেলাগুলো ভ্রমণ করেছেন, সেগুলোর নাম নির্বাচন করতে পারেন। চাইলে সরাসরি ম্যাপে ক্লিক করেও জেলা বাছাই করা যায়। নিজের নাম ও ছবি যোগ করার পাশাপাশি পছন্দের রঙের থিমও নির্বাচন করা যায়। এরপর ম্যাপটি PNG, JPG বা PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যায়। একই সঙ্গে মোট বাংলাদেশের কত শতাংশ ভ্রমণ করা হয়েছে, সেটিও ম্যাপে দেখা যায়।
দ্বিতীয় সুবিধা ‘কোথায় ঘুরবেন’। এখানে কোনো জেলা নির্বাচন করলে ওই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর ছবি, যাতায়াতের ব্যবস্থা, আনুমানিক খরচ, থাকার জায়গা ও বিখ্যাত খাবারের তথ্য পাওয়া যায়। ‘বিস্তারিত দেখুন’ অপশনে গেলে সংশ্লিষ্ট স্থানের ইতিহাসসহ আরও তথ্য জানা যায়।
তৃতীয় সুবিধা ‘ট্রিপ প্ল্যানার’। এতে কোন জেলা থেকে যাত্রা শুরু হবে, কোন কোন জেলায় যাওয়া হবে, ভ্রমণের সময়কাল, ভ্রমণসঙ্গীর সংখ্যা ও বাজেট উল্লেখ করলে সাইটটি সম্ভাব্য রুট সাজিয়ে দেয়। পাশাপাশি দিনভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা ও মোট আনুমানিক খরচও দেখানো হয়।
রবিন জানান, ব্যবহারকারীর নির্বাচিত জেলা বা ছবি কোথাও পাঠানো হয় না। এসব তথ্য ব্যবহারকারীর নিজের ডিভাইসেই থাকে।
শখ থেকেই শুরু
সাইটটি তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে রবিন বলেন, ‘সাইটটি আসলে নিতান্তই শখের বশে তৈরি। প্রথম সংস্করণটি ক্লাউড কোড নামের একটি এআই টুল দিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় বানিয়েছিলাম। শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল এটি নিজের কাছেই রাখা। তবে এর পেছনে মূল ভাবনা ছিল ভ্রমণপ্রেমী মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু এক জায়গায় নিয়ে আসা।’
তিনি বলেন, ‘কে কতটুকু বাংলাদেশ ঘুরেছেন, তা সুন্দরভাবে তুলে ধরা, নতুন কোথায় যাওয়া যায় তা খুঁজে পাওয়া এবং সেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা—সবই যেন একটি সাইটে করা যায়, সেটিই চেয়েছি। আমি চাই, মানুষ দেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে দেখতে উৎসাহিত হোক, দেশের অচেনা সুন্দর জায়গাগুলো সম্পর্কে জানুক এবং ভ্রমণের আগে তথ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে না হয়।’
এক সপ্তাহেই ৫২ হাজার ব্যবহারকারী
ওয়েবসাইটটি ঘিরে সাড়া কেমন, জানতে চাইলে রবিন বলেন, এতটা সাড়া পাবেন, তিনি কল্পনাও করেননি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সাইটটি তৈরি করে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেছিলেন। এর
Leave a comment