মৃত্যুর পর একজন মানুষ তাঁর গোসল, কাফন-দাফন, জানাজা কিংবা স্বজনদের কান্না ও কথাবার্তা শুনতে বা অনুভব করতে পারেন কি না—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, গোসল, কাফন-দাফন কিংবা জানাজার সময় স্বজনদের কান্নাকাটি ও কথাবার্তা মৃত ব্যক্তি পুরোপুরি শুনতে বা অনুভব করেন—এমন কথা কোনো হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
তবে মৃত ব্যক্তি দুনিয়ার মানুষের কিছু আওয়াজ শুনতে পারেন—এমন বিষয়ে নবী করিম (সা.)-এর দুটি হাদিসের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর একটি হজরত আনাস (রা.) এবং অন্যটি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সহিহ বুখারিতে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর তার স্বজনেরা যখন ফিরে যান, তখন মৃত ব্যক্তি তাঁদের জুতার শব্দ শুনতে পান।
এ থেকে বোঝা যায়, দাফনের পর মৃত ব্যক্তি স্বজনদের কিছু গতিবিধি বা কবর জিয়ারতের বিষয় অনুভব করতে পারেন। তবে এটি কীভাবে ঘটে, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তি পরিচিত মৃত ব্যক্তির কবরের কাছে গিয়ে সালাম দিলে মৃত ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে সালামের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা দেওয়া হয়।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব বর্ণনা থেকে দাফনের পর কবর জিয়ারত ও সালাম দেওয়ার বিষয়টি এবং মৃত ব্যক্তির তা অনুভব করার বিষয়টি জানা যায়।
তবে দাফনের আগে গোসল, কাফন-দাফন কিংবা স্বজনদের কথাবার্তা ও আচরণ মৃত ব্যক্তি অনুভব করতে পারেন কি না—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না বলে জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল
Leave a comment