নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে রাত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই অভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে আইভীকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন প্রদান করলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেছিলেন। আজকের আদেশের ফলে নতুন করে দুটি মামলায় তার জামিন নিশ্চিত হলো। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইভীর বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিষয়ে আগামী রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আদেশ প্রদান করবেন। ফলে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে তাকে আরও কিছু আইনি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
একই দিনে পৃথক এক আদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে এই জামিন দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ মার্চ শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন ইমিসহ কয়েকজন মিলে শাহবাগে ভাষণটি বাজাচ্ছিলেন। সে সময় ডাকসুর তৎকালীন নেতারা ইমিকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালত আজ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছেন।
সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘ সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়। আইভী সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
Leave a comment