আল আমিন খোকন, রাজবাড়ী
গ্রীষ্মের তপ্ততা পেরিয়ে আজ নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। আজ পয়লা আষাঢ়। রূপসী বাংলার ঋতুচক্রে বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন যেন জলধারার নূপুরে বেজে ওঠা এক নতুন সুর।
মেঘের ভেলা আজ আকাশ জুড়ে পেতেছে সজল সখ্য। কবিগুরুর ভাষায়— “ওই আসে, ওই অতি ভৈরব হরষে”— সেই আহ্বান যেন প্রকৃতিতে নতুন করে ধ্বনিত হচ্ছে আজকের সকালে।
তপ্ত খরতাপে যে প্রকৃতি দীর্ঘদিন মেঘের অপেক্ষায় ছিল, আষাঢ়ের প্রথম দিনে পুবালি বাতাসের ছোঁয়ায় তার অবসান ঘটেছে। আকাশজুড়ে কালো-ধূসর মেঘের ভেলা যেন নীল ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। ধুলোমলিন বৃক্ষরাজি বৃষ্টিস্নানে ফিরে পেয়েছে গাঢ় সবুজের প্রাণ।
ডালে ডালে ফুটতে শুরু করেছে কদম—বর্ষার চিরচেনা আগমনী চিহ্ন। কেতকী আর যূথিকার মৃদু গন্ধমাখা বাতাসে ভেসে আসছে বিরহ আর মিলনের মিশ্র আবেশ, যা এই ঋতুকে করে তোলে আরও অনুভূতিপূর্ণ।
কৃষকের মুখেও ফিরছে স্বস্তির হাসি। তৃষ্ণার্ত মাঠে নেমে আসা বৃষ্টির ফোঁটা যেন নতুন আশার বীজ বপন করছে। সোনালী ফসলের সম্ভাবনায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ।
শহুরে জীবনের ইট-কাঠের ভিড়েও আষাঢ়ের এই প্রথম দিন এনে দিয়েছে এক পশলা স্বস্তি। কোথাও ছুটির ফাঁকে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ, কোথাও জানালার কাচে ভেসে ওঠা মেঘের আনাগোনা—সব মিলিয়ে এক নীরব রোমান্টিকতা ছড়িয়ে আছে চারপাশে। তবে একই সঙ্গে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট আর জলজটের বাস্তবতাও আজ স্পষ্ট।
কবিতা, গান আর সাহিত্যে আষাঢ় চিরকালই এক অনিবার্য অনুষঙ্গ। কালিদাস থেকে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে জীবনানন্দ—সবাই তাঁদের লেখায় ধরে রেখেছেন এই মেঘ-বৃষ্টির ঋতুর অনন্ত রূপ।
স্বাগত আষাঢ়। ধুয়ে যাক ক্লান্তি ও গ্লানি। মেঘের সুরে জেগে উঠুক নতুন দিনের আশা, সবুজে সবুজে ভরে উঠুক বাংলার প্রকৃতি।
Leave a comment