জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি দোকান থেকে চুরি হওয়া প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) মূল্যের সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত অডেমার পিগে (Audemars Piguet) ব্র্যান্ডের একটি অতি-বিলাসবহুল হাতঘড়ি রহস্যজনকভাবে ফেরত এসেছে। চোর কোনো এক অজানা কারণে অনুশোচনায় ভুগে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঘড়িটি সসম্মানে দোকানে ফেরত পাঠিয়েছে। ঘড়ির পার্সেলের সঙ্গে ছিল একটি হাতে লেখা ক্ষমা প্রার্থনার আবেগঘন চিঠি। তবে বিপুল অঙ্কের এই অমূল্য ঘড়ি ফেরত এলেও চুরির সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তকে এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি টোকিও পুলিশ।
আন্তর্জাতিক ও জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে টোকিওর জনপ্রিয় নাকানো ব্রডওয়ে শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি নামি ঘড়ির দোকানে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাটি ঘটে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এক ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে ঘড়িটি স্বচক্ষে দেখার এবং হাতে পরে পরীক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কর্মচারীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে তিনি ঘড়িটি বগলদাবা করে দ্রুত চম্পট দেন। এ সময় দোকানে দুজন কর্মী উপস্থিত থাকলেও তারা কেউ হতাহত হননি।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নামলেও রোববারে আকস্মিকভাবে আইচি প্রিফেকচার থেকে একটি কুরিয়ার পার্সেল এসে পৌঁছায় ওই দোকানে। পার্সেলটি খোলার পর দোকানের কর্মীরা ঘড়িটির অনন্য সিরিয়াল নম্বর মেলাতেই নিশ্চিত হন যে এটিই সেই কয়েক দিন আগে চুরি হওয়া বহু মূল্যবান ঘড়ি। পার্সেলের ভেতরের চিঠিতে চোর নিজের অপকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
যদিও পার্সেলের ওপর প্রেরকের একটি নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, তবে পুলিশ ও তদন্তকারীদের প্রবল ধারণা—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সেগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ঘড়ি উদ্ধার হলেও পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও পার্সেলের উৎস খতিয়ে দেখে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, নাকানো ব্রডওয়ে শপিং কমপ্লেক্সে এটিই প্রথম চুরির ঘটনা নয়। এর আগে গত আগস্টেও এই একই ভবনের নিচতলার একটি দোকান থেকে প্রায় ২০ কোটি ইয়েন মূল্যের ৪টি বিলাসবহুল ঘড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে সেই চুরির ঘটনায় দুই চিলির নাগরিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।
Leave a comment