মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ফের সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা সংগঠিত হয়ে একটি বড় মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা ব্যানার ও স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে প্রধান সড়ক ধরে গুরুত্বপূর্ণ মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের অভিমুখে রওয়ানা হন। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সড়কে অবস্থান নেওয়া বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তাঁদের গতিপথে জোর বাধা প্রদান করেন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালালে মুহূর্তের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ ধাওয়া দেয় এবং টিয়ারশেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের ধাওয়ার মুখে শ্রমিকেরা পরবর্তীতে রাস্তা ছেড়ে নিজ নিজ কারখানার দিকে কেটে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত রোববার মিরপুর-১০, ১১ ও কালশী এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিনভর ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘাতময় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতে সোমবার ভোর থেকেই মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বরের প্রধান সড়ক এবং অলিগলিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং সড়কে অবৈধ অবস্থান ঠেকাতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সকালের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপের বিষয়ে পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবারের সহিংস সংঘর্ষের সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে এলাকা খালি করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওই নাশকতার ঘটনায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে মোট ১৯ জনকে আটক করে পুলিশ। সার্বিকভাবে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে পুরো মিরপুর শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখনো চরম আতঙ্ক ও থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Leave a comment