ফরিদপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৮৪ বছর বয়সী এক শয্যাশায়ী বৃদ্ধকে জানালার পাশে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মানসিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোলাইমান হোসাইন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বৃদ্ধের ছেলে মোহাম্মদ ফিরোজ নূর।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের বাড়িতে। জিডিতে বাবার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর বড় ছেলে ফিরোজ নূর।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আলতাফ হোসেনের কেনা জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী সোলাইমান হোসাইনের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হয়রানি করে আসছেন। বৃদ্ধের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরায় তাঁকে হয়রানির কিছু দৃশ্য ধারণ হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের। এ বিষয়ে প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে সম্প্রতি ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তাঁরা।
জিডির বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সোলাইমান হোসাইনের নির্দেশে তাঁর খালা পিঞ্জিরা খাতুন ও লাইলী বেগম অসুস্থ বৃদ্ধের ঘরের জানালার পাশে মোবাইল ফোনে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে যান। এ ছাড়া তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃদ্ধের ছোট ছেলে ইউসুফ নূর একজন পুলিশ সদস্য। তিনি বলেন, তাঁর ৮৪ বছর বয়সী বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং শয্যাশায়ী। জানালার পাশে হঠাৎ বিকট শব্দ করা ও দীর্ঘ সময় গান বাজানোর কারণে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষকদল নেতা সোলাইমান হোসাইন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ইউসুফ নূর নিজেই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, জিডির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment