ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। কেরালা ও কর্ণাটক রাজ্যে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনা এবং ভয়াবহ ভূমিধসে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল কেরালা রাজ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন এবং প্রতিবেশী কর্ণাটকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় রোববার (২ আগস্ট) পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়ায়। প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে মানুষকে বাঁচাতে রাজ্যজুড়ে ইতোমধ্যেই ২৭৫টি জরুরি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৭০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে সোমবার (৩ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে কেরালা রাজ্য সরকার। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে কাদা ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাজ্যের একাধিক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং চলমান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
কেরালা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণের জেরে কর্ণাটক রাজ্যে পাহাড় ধসে এক দম্পতি ও তাদের সন্তানের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে উভয় রাজ্যেই উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a comment