ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় মর্মান্তিক ও নৃশংস এক ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রেললাইনের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে মাহমুদা আক্তার (৯) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের পর পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোহরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের রেললাইনের পাশের পারিবারিক কবরস্থানের কাছ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাহমুদা ওই গ্রামের দিনমজুর ইদ্রিস মোল্ল্যার চার সন্তান-সন্ততির মধ্যে সবার ছোট।
পরিবারের স্বজনেরা জানান, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাহমুদা বাড়ি থেকে বের হয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। চারদিকে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশীরা খবর দিলে নগরকান্দা থানা-পুলিশের একটি দল এলাকায় যৌথ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় রেললাইনের পাশের ঝোপঝাড়ের মাঝ থেকে শিশুটির বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতের স্বজন ও ভাবি শাহনাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা মাহমুদাকে শতভাগ বিবস্ত্র অবস্থায় পেয়েছি, শরীর থেকে গায়ের জামা-কাপড় পুরোপুরি গায়েব ছিল। সূর্য নামে এলাকার এক যুবকের ওপর আমাদের প্রবল সন্দেহ। তাকে নির্যাতন ও পাশবিক নিপীড়নের পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, প্রাথমিক পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুই স্থানীয়কে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছে।
Leave a comment