ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন সুপরিচিত এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদন সান্ধু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিনোদন অঙ্গনে তিনি ‘মাদ সান্ধু’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমগ্র অঞ্চলজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অমৃতসরের লোহরকা রোডে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে চেপে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি সান্ধুকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির আঘাতে তিনি রক্তাত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করতে জোর তদন্ত পরিচালনা করছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
ইনস্টাগ্রামে দুই লাখেরও বেশি অনুসারী থাকা মাদ সান্ধু ফ্যাশন, রূপচর্চা এবং জীবনধারা নিয়ে কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি অমৃতসরে একটি নিজস্ব মেকআপ প্রতিষ্ঠান ও সৌন্দর্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। তিনি একটি জনপ্রিয় পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র ‘ওয়ে ভোলে ওয়ে’-তেও অভিনয় করেছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মুক্ত প্রকাশ ও এলজিবিটিকিউ পরিচয়ের কারণে তাকে প্রায়শই তীব্র সমালোচনা ও অনলাইনে নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হতো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পূর্বে সান্ধুর তৈরি কিছু কনটেন্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এক নিহাং শিখ তাঁর তৈরি ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য আপত্তি জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে ওই আপত্তির সঙ্গে বর্তমান এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
এদিকে ঘটনার পর ‘গোল্ডি ধিলোঁ’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে কথিত দায় স্বীকার করে পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে সান্ধুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি ‘নষ্ট’ করার অভিযোগ আনা হয়। যদিও ওই বিতর্কিত পোস্টটি প্রকৃত হামলাকারীদেরই কি না, তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পুলিশ সেটি তদন্তাধীন রেখেছে। সবকটি দিক পর্যালোচনা করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
Leave a comment