সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝআকাশে সহকর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত ওমানি পাইলট হামাম আলহাম্মামিকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে উড্ডয়নরত ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রীসহ বোয়িং বিমানটি ইসরাইলে নিয়ে বিধ্বস্ত করার চরমপন্থী পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণকারী এই পাইলটের পিতা ওমানি এবং মা সিরীয়।
জীবনের বড় একটি সময় সিরিয়ায় কাটানোর দরুন তিনি উগ্র চরমপন্থী মতাদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে শিক্ষানবিস থাকাকালে তাঁর কাছে চরমপন্থী নথিপত্র মেলায় বিমানে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটির সরকার। অথচ ওমানের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ‘ফ্লাইদুবাই’ তাকে নিয়োগ দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের অতি সংবেদনশীল রুটে বিমান চালনার দায়িত্ব দেয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলগুলোতে উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে সমর্থন করে একাধিক বার্তা পোস্ট করা হয়েছিল। একটি ভিডিওতে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতাদের ছবির পাশাপাশি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে ইসরাইলি এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজকে নিশানার মতো করে ধারণ করা দৃশ্য দেখা যায়।
গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিতে ককপিটেই মূল নাশকতা চালানোর চেষ্টা করেন হামাম। তবে তাঁর এমন আত্মঘাতী ও ভয়াবহ পরিকল্পনায় বাধা দিলে তিনি সহকর্মী ভারতীয় পাইলট মাচ্ছারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। সে সময় বিমানটি আচমকা মারাত্মক উচ্চতা হারিয়ে ১৫ হাজার ৬০০ ফুটে নেমে আসে।
গুরুতর রক্তাত অবস্থা সত্ত্বেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ভারতীয় পাইলট ককপিটের ভেতরের দরজা খুলে দিতে সমর্থ হন। পরবর্তীতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা দ্রুত ভেতরে ঢুকে হামলাকারী ওমানি পাইলটকে কাবু করেন। ফলে নিশ্চিত একটি মারাত্মক বিপর্যয় ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পায় বিমানে থাকা শত শত যাত্রী।
Leave a comment