Home আন্তর্জাতিক প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠীকে খুন: দুই দফা বিষাক্ত ইনজেকশনের পর যেভাবে বেঁচে ফিরলেন তরুণী
আন্তর্জাতিক

প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠীকে খুন: দুই দফা বিষাক্ত ইনজেকশনের পর যেভাবে বেঁচে ফিরলেন তরুণী

Share
Share

প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে কলেজের এক সহপাঠিনীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে টানা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি থাকা মার্কিন নারী ক্রিস্টা পাইক এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও দুই দফা বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরও থামেনি তাঁর হৃদস্পন্দন। পরে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিস্টার শরীরে ৯০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও তাঁর মৃত্যু হয়নি। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর্দার আড়ালে ক্রিস্টাকে দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিতে ও নড়াচড়া করতে দেখা যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, এক দফায় তা ব্যর্থ হওয়ায় আইনগতভাবে দ্বিতীয়বার ইনজেকশন প্রয়োগের সুযোগ নেই। ফলে এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় প্রদেশটিতে চলতি বছরের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। টেনেসির নক্সভিলের একটি কলেজে পড়ার সময় সহপাঠিনী কলিন স্লেমারের সঙ্গে ক্রিস্টার শত্রুতা তৈরি হয়। প্রেমিককে ছিনিয়ে নেওয়ার সন্দেহে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্রিস্টা তাঁর প্রেমিক ও এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নির্জন স্থানে ডেকে এনে কলিনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন। এমনকি হত্যার পর কঙ্কালের হাড় নিজেদের কাছে রেখে সহপাঠীদের দেখাতেন তাঁরা। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিচারে ক্রিস্টার তৎকালীন প্রেমিক অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করা বন্ধুটি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে ক্রিস্টা পাইককে ১৯৯৬ সালে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ তিন দশক ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ক্রিস্টার শৈশবের মানসিক নির্যাতন ও অবসাদের বিষয়টি তুলে ধরে সাজা কমানোর আকুতি জানালেও সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডই বহাল রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল বিরলতম এক ঘটনা। এক আসামির ওপর দু-দুবার বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করার পরও মৃত্যুবরণ না করার এই বিতর্কিত প্রেক্ষাপটে দেশটির মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও মানবিকতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ: নিচে চাপা পড়ে আছে ১০ হাজার মরদেহ

অবিরাম ইসরায়েলি হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সমগ্র গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজাজুড়ে জমা হওয়া মোট ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি...

কক্সবাজারে অপহরণের চার ঘণ্টা পর মহাসড়কে মিলল ছাত্রদল নেতার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি ফেরার পথে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের মাত্র...

Related Articles

সহকর্মীকে ছুরি মারা সেই ওমানি পাইলট সম্পর্কে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত...

আফগানিস্তানে ৭০ মিটার গভীর কূপ থেকে উদ্ধার ৫ বছরের শিশু

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে মৃত্যুকূপ থেকে এক পাঁচ বছরের শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত...

সমকামী ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মাদ সান্ধুকে গুলি করে হ’ত্যা

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন সুপরিচিত এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) ইনফ্লুয়েন্সার...

সহকর্মীকে ছুরি মারা সেই ওমানি পাইলট সম্পর্কে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝআকাশে সহকর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত...

;