যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাত ছয় মাস পেরিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় এক মাসের বিরতির পর চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ফের সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সদস্যরা সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে এক মাসের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে আবারও সরাসরি সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এর পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ট্রেজারি গত সপ্তাহে ইরানের তেল, অর্থ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়ে সামরিক হামলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল অনুসরণ করছে। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টাপাল্টি চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ না এলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
Leave a comment