চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে (২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই) অর্জিত প্রায় সাড়ে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ তেল রাজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছে ইরান। কড়া মার্কিন নৌ অবরোধের মুখেই এ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সংগৃহীত এই অর্থ চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ভার নির্বাহ করার জন্য যথেষ্ট। মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বাধীনভাবে তেল বিক্রি করে ২০২৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২৭ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত রাষ্ট্রীয় বাজেটের সিংহভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি খাত। প্রথম চার মাসেই অর্জিত অর্থ বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ স্পর্শ করেছে।
এমন এক সময়ে এই ইতিবাচক অর্থনৈতিক খবর এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তেহরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও সরাসরি জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার প্রবল ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে বন্ধ করে রেখেছে ইরান, আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে এই অবরোধ প্রত্যাহার ও জলপথ খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ফ্রিজ করা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না।
Leave a comment