ইসরায়েলি বাহিনীর হেফাজতে থাকার সময় ফিলিস্তিনপন্থি জার্মান নারী অধিকারকর্মী ও গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের (ফ্লোটিলা) সদস্য অ্যানা লিডকে (২৫) ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ের করা একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ থেকে এই রোমহর্ষক ও পাশবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রটি প্রকাশ করা হয়। ২৫ বছর বয়সী লিডকে জানান, গত শরতে তিনি ইউরোপ থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের সাহায্যবাহী নৌকাটি ইসরায়েলি বাহিনী জোরপূর্বক আটক করে এবং তাঁকে ইসরায়েলের গিভন কারাগারে পাঁচ দিন বন্দি করে রাখা হয়।
আদালতের অভিযোগপত্র ও লিডকের বিবরণ অনুযায়ী, বন্দিশালায় তৃতীয়বারের মতো বেআইনিভাবে শরীর তল্লাশির নামে কারারক্ষীরা তাঁকে বিবস্ত্র করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে। লিডকে আত্মরক্ষার্থে চিৎকার শুরু করলে তাঁর মুখ চেপে ধরে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের সেই ভয়াবহ মুহূর্ত স্মরণ করে তিনি বলেন, কারাকক্ষের বারান্দা থেকে আংশিক টানা একটি খোলা পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে পুরুষ কারারক্ষীরা হীন আনন্দ পাচ্ছিল এবং সম্ভবত পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করছিল।
লিডকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, ফ্লোটিলার নারী ও পুরুষ কর্মীদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত যৌন সহিংসতা চালানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্বব্যাপী চলমান সংহতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। তবে এই ট্রমার মুখেও দমে না গিয়ে লিডকে প্রথম ফ্লোটিলা কর্মী হিসেবে ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর দেখাদেখি আরও এক ডজনেরও বেশি সহকর্মী গোপন হেফাজতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলে লিডকের পক্ষে মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’-এর বিশিষ্ট আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও কারারক্ষী তদন্ত বিভাগের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন। আইনজীবী হাদ্দাদ বলেন, এই আইনি পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি প্রশাসনের দীর্ঘদিনের ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে’ আন্তর্জাতিক মহলে চ্যালেঞ্জ করা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কারাগারে যে নিয়মতান্ত্রিক যৌন সহিংসতা চালানো হচ্ছে, এখন তার শিকার হচ্ছেন বিদেশি নাগরিকরাও। তবে নির্যাতিত অ্যানা লিডকে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, ফিলিস্তিনি বন্দিরা প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন, তাঁর ওপর হওয়া নির্যাতন তার চেয়ে অনেক কম; তাই অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
Leave a comment