Home জাতীয় অপরাধ ৪৫ বছর আত্মগোপনে ছিলেন জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন
অপরাধআইন-বিচারজাতীয়বিএনপিরাজনীতিসাম্প্রতিক

৪৫ বছর আত্মগোপনে ছিলেন জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন

Share
Share

দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সুদীর্ঘ ৪৫ বছর পর মূল অভিযুক্ত ও পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী ডিওএইচএস থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে সাড়ে চার দশকের একটি অমীমাংসিত ও পলাতক অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের ওই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকেই আইনের চোখ ফাঁকি দিতে সুকৌশলে দেশ ছাড়েন মোজাফফর হোসেন। তিনি দীর্ঘ সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ছদ্মনাম ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি অত্যন্ত গোপনে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতেন এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে গা ঢাকা দিয়ে থাকতেন।

ইতিহাস ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। সফরের আগের দিন ২৯ মে তিনি স্থানীয় দলীয় কোন্দল নিরসনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সফরে গিয়েছিলেন। সার্কিট হাউসে অবস্থানকালীন গভীর রাতে ঘুমন্ত রাষ্ট্রপতির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ঘাতক চক্র।

ঐতিহাসিক ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী। ল্যান্সার ও পদাতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘাতক মোজাফফরই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে সেই কুখ্যাত বার্তাটি দিয়েছিলেন— ‘The President has been killed.’

হত্যাকাণ্ডের পর পরই সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে সীমান্ত পার হতে সক্ষম হন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিচারে নতুন মাত্রা যোগ হলো। এখন সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়া বা কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশ কততম, শীর্ষে কারা?

বিশ্বজুড়ে প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস পোলট্রির মাংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে এর চাহিদাও বাড়ছে। তবে উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্ববাজারে এখনো...

তিন বছর প্রবাসে স্বামী, সন্তান জন্মের গুঞ্জনে তোলপাড় লাখাই

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে তিন বছর ধরে প্রবাসে থাকা এক ব্যক্তির স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।...

Related Articles

ইসরায়েলি কারাগারে ভয়াবহ ধর্ষণের শিকার জার্মান অধিকারকর্মী

ইসরায়েলি বাহিনীর হেফাজতে থাকার সময় ফিলিস্তিনপন্থি জার্মান নারী অধিকারকর্মী ও গাজাগামী মানবিক...

সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই নিহত

বিদেশের মাটিতে পরিবারের সচ্ছলতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সরকারকে ‘মুজিববাদী সংবিধানের’ পাহারাদার না হয়ে জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন...