এমরান হোসেন, জামালপুর
জামালপুরে অটোরিকশাচালক নায়েব আলীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ধানক্ষেতে ফেলে রাখার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে জামালপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কর্মকর্তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান কবির (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আব্দুল কাদের (৫৬), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬)। তাঁদের মধ্যে নাহিদুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করেছে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, নিহত নায়েব আলী মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার ভোরে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ডেফলা ব্রিজসংলগ্ন বেনুয়ারচর বাজার সড়কের পাশে একটি পানিভর্তি ধানক্ষেতে পড়ে থাকা লাগেজের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে পোশাক ও কোমরে থাকা তাবিজ দেখে স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন ইসলাম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যা, চুরি ও প্রমাণ গোপনের অভিযোগে মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।
তদন্তে জানা যায়, গত ২১ জুন ভোরে নায়েব আলী প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে নাহিদুল ইসলামকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই দাবি করেছে, জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সহযোগীদের নিয়ে নায়েব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়া হয়।
পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার, তিনটি চাকা ও মোটর ডিফারেনশিয়াল।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।”
Leave a comment