ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্পে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার ‘মেমেই’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে থাকায় সেটি ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি ভাঙার জন্য আমদানি করেছিল এসএন করপোরেশন। তবে জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি চট্টগ্রাম উপকূলে নোঙর করে থাকলেও তা ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
শিপব্রেকিং শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আগে তথ্য পাওয়া গেলে জাহাজটি আমদানি করা হতো না। এখন আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার ‘মেমেই’ (আইএমও নম্বর ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ পতাকাবাহী এই ট্যাংকারটি আগে সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
পরবর্তীতে ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ওএফএসি জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। অভিযোগে বলা হয়, জাহাজটি ২০২৪ সালে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছিল। একই সঙ্গে এর মালিকানাধীন হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিস্থিতি জানার পর জাহাজটি ভাঙার পরিবর্তে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
Leave a comment