ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ গান গেয়ে আনন্দ-উল্লাস করছেন বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চার দফা দাবির একটি পূরণ হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনাসহ বাকি দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সিজেপি লিখেছে, ‘গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।’
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়ায় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এটি প্রমাণ করে, আপনি যদি ভয় না পান এবং সরকারের সামনে মাথা নত না করেন, তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। গণতন্ত্রে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
‘ভারতের তরুণদের বিজয়’
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেনুগোপাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে ভারতের তরুণদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তরুণদের শক্তিই অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও দায়ী শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। এটি জনগণের জয় এবং জবাবদিহির দাবিতে লড়াই করা সবার বিজয়।’
বেনুগোপালের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই কংগ্রেস, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিরোধী দলগুলোও জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের বাকি দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা।
‘তরুণদের শক্তির বড় বিজয়’
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ারও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘তরুণদের শক্তির বড় বিজয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৮ দিনের আন্দোলনে তরুণদের যে দৃঢ়তা দেখা গেছে, তা প্রশংসার দাবিদার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াই সরকারকে নৈতিক দায় স্বীকারে বাধ্য করেছে। এটি গণতন্ত্রের শক্তি এবং দেশের তরুণদের ঐক্যের প্রতীক।’
এদিকে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতা গোপাল রাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান জানান। তিনি বিহারের পাটনা ও গুজরাটে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রনেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
গোপাল রাই অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘এভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।’
Leave a comment