মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে দিল্লির রাজপথে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকেরা। যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ পদযাত্রায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অমানবিক বলপ্রয়োগে রক্তাক্ত হয়েছে তরুণ সমাজ। হবু চিকিৎসকদের ওপর এই পুলিশি তাণ্ডব পুরো ভারতজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আন্দোলনের দাবানল জ্বালিয়ে দিয়েছে।
শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যখন সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন, তখনই রাজপথে নেমে আসে প্রশাসনের কঠোর আঘাত। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের অমানুষিকভাবে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা এবং তাদের ওপর লাঠিচার্জের দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (HRW) এক বিবৃতিতে এই নির্মম পুলিশি অ্যাকশনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে ভয় ও দমন-পীড়ন নীতি প্রয়োগ করেও আন্দোলন দমন করা যায়নি। হায়দরাবাদ থেকে আসা তরুণী দিশার মতো শত শত স্বাধীনচেতা শিক্ষার্থী আজ সব বাধা উপেক্ষা করে দিল্লির রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এই অপ্রতিরোধ্য সংগ্রামের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের অভিভাবক, শিক্ষক, বিমান সংস্থার কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজ। দিল্লির রাজপথ এখন অধিকার আদায় ও শিক্ষার মান রক্ষার এক ঐতিহাসিক গণদাবিতে রূপ নিয়েছে।
চলমান এই নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে অবশেষে কিছুটা ব্যাকফুটে গিয়ে নমনীয় বার্তা দিয়েছে মোদি সরকার। ইউনিয়ন মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারী সংগঠন ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, তরুণদের স্বার্থে সরকার “যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে” আলোচনায় বসতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও সিজেপি নেতৃত্ব তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট শর্ত—যেকোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে হবে নিরপেক্ষ কোনো স্থানে অথবা যে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন, সেখানে এসে সরকারকে কথা বলতে হবে। সব মিলিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছে ভারতের বিক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ।
Leave a comment