মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত দুই সপ্তাহে অন্তত নয়টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার খবর বারবার প্রচার করা হলেও, আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভয়াবহ সত্য প্রকাশ পেয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক ভিজ্যুয়াল অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং তারা আমেরিকান সামরিক কাঠামোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে মার্কিন স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর ওপর ছবি প্রকাশের বিধিনিষেধ জারি করা হলেও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ডেটা, ইরানি স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ঘাঁটির ভেতরে থাকা সেনাসদস্যদের ধারণ করা গোপন ভিডিওর মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও ভিজ্যুয়াল অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রধান প্রধান ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো :
• জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি: অতি সাম্প্রতিক এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ঘাঁটির সেনানিবাস ও সেনাসদস্যদের আবাসন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। জর্ডানসহ সংলগ্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন ও রকেট হামলায় গুরুতর আহত অন্তত এক ডজন মার্কিন সেনাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য জার্মানির ল্যান্ডস্টুল মার্কিন সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে।
• টাওয়ার ২২ (জর্ডান-সিরিয়া সীমান্ত): কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটির একটি পুরো ভবন ইরানি হামলায় গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। টেলিগ্রামে ফাঁসে হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে ভবনের দক্ষিণ অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
• কুয়েতের আহমাদ আল-জাবের ও আল সালিম বিমানঘাঁটি: নির্মাণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় গত ২০ জুলাইয়ের দিকে আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটির একটি অতীব সংবেদনশীল রাডার সিস্টেম ইরানি সুনির্দিষ্ট হামলায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সংলগ্ন আল সালিম ঘাঁটিতেও ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে।
• অন্যান্য অঞ্চল ও নৌঘাঁটি: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটির গুদামঘরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন সেনাসদস্যদের ব্যবহৃত একটি সুবিশাল তাঁবু ও জর্ডানের কিং হুসেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আরও দুটি কৌশলগত ঘাটির হ্যাঙ্গার ও রাডার অবকাঠামো ইরানি নিখুঁত আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যদিও মার্কিন পেন্টাগন নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে, তবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে-সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশের অন্তত ১৮টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। যার মধ্যে অন্তত ৪টি ঘাঁটিতে গত দুই সপ্তাহে পুনরায় দ্বিতীয় দফায় মারাত্মক হামলা চালানো হলো।
Leave a comment