ভৌগোলিক দূরত্বের সীমানা পেরিয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামে আজ বুধবার যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী, জেলার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দেশের মূল ভূখণ্ডের একদিন আগেই পবিত্র এই উৎসব পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক শতাব্দী ধরে পটুয়াখালীর এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্যের চন্দ্রোদয় ও ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিল রেখে রোজা এবং দুই ঈদ উদযাপনের রীতি চলে আসছে। ১৯২৮ সাল থেকে এখানকার বাসিন্দারা নিয়মিতভাবে একদিন আগেই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করছেন। শুধু সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামেই প্রায় ১০০টি পরিবার বংশানুক্রমিকভাবে এই নিয়ম নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে আসছে।
আজ বুধবার যেসব গ্রামে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোটবিঘাই; গলাচিপা উপজেলার পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি ও নিজ হাওলা; বাউফল উপজেলার রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলাখালী, আমিরাবাদ ও কনকদিয়া। এছাড়া কলাপাড়া উপজেলার ইটবাড়ীয়া, নাঈয়াপট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে ঈদের জামাত ও কোরবানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু রায়হান দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য সম্পর্কে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, সারা দেশে ঈদ উদযাপনের একদিন আগে আমাদের এলাকায় ঈদের আনন্দ শুরু হয়। আমরাও পূর্বপুরুষদের সেই নিয়ম ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে ঈদ করি। সকাল সকাল ঈদের নামাজ আদায়, কোলাকুলি, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত এবং কোরবানি দেওয়া—সব মিলিয়ে দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ।”
এ বিষয়ে বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি জানান, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে, সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই আমরা ঈদুল আজহা উদযাপন করি। হাদিস শরিফেও এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও ব্যাখ্যা রয়েছে। সেই আলোকে প্রতিবছরের মতো এবারও সকাল ৮টায় আমাদের দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর জন্য সব ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছিল।” নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপরই শুরু হয় পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা।
Leave a comment