ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
সুন্দরবন সংরক্ষণে কোনো ধরনের পক্ষপাত না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক দিনব্যাপী নাগরিক সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষা দিয়ে আসছে সুন্দরবন। অথচ এ অঞ্চলেরই একটি অসাধু চক্র বনটির ক্ষতি করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে বিশ্বাসী। পাহাড় কাটা ও নির্বিচারে গাছ নিধনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল উপকূলীয় ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য ৬৬১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ দূষণ কমাতে দেশের কোনো ইটভাটায় কাঠ পোড়াতে দেওয়া হবে না এবং নতুন করে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে না। ভবিষ্যতে সৌর ও বায়ুশক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ঢাকার ২০ থেকে ২৫ বছর পুরোনো বাস সড়ক থেকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ব্রাইটার্স, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, সচেতন ফাউন্ডেশন ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবন সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনেরা মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধরার কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী মনিরা শারমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ খুলনার সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ এবং সুন্দরবন জাদুঘরের পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস।
দুপুরে ‘দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জীবন-জীবিকা ও বাস্তুতন্ত্র’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভাপতিত্ব করেন মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কে. এম. রব্বানী।
Leave a comment