যুদ্ধ অবসানে আলোচনার লক্ষ্যে ইরানের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দৃশ্যমান ছাড় দেয়নি বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। বরং ওয়াশিংটন পাঁচ দফা শর্তসম্বলিত একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রোববার ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সব মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ মুক্ত করতেও রাজি হয়নি ওয়াশিংটন। পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার কোনো ক্ষতিপূরণ দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনার প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর বলেছে, কোনো দৃশ্যমান ছাড় না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু আদায় করতে চাইছে, যা তারা যুদ্ধে অর্জন করতে পারেনি। এতে আলোচনা অচলাবস্থার দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও রয়েছে। একই সঙ্গে ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরান সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবিও তুলেছে।
ফার্স আরও জানায়, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানই অব্যাহত রাখবে বলে নিজেদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে তেহরান। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ সময় কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইরান।
এদিকে রোববার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেখারচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন করে হামলা চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে তিনি বলেন, “যদি ইসলামি ইরানের ওপর আবার হামলা চালানো হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সম্পদ নজিরবিহীন, আক্রমণাত্মক ও বিস্ময়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।”
অন্যদিকে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই ইরানের তেল অবকাঠামোয় হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যার ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব এই অঞ্চল থেকে তেল পাবে না।”
Leave a comment