মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ‘পূর্ণ তত্ত্বাবধান ও একক ব্যবস্থাপনা’ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যমান সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা ও ভূরাজনৈতিক জটিলতা দূর হওয়ার পর ধাপে ধাপে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে।
বর্তমানে ইরাক সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাগদাদে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন। আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া দীর্ঘ সংঘাতের পরিণতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকসংক্রান্ত (এমওইউ) সর্বশেষ অগ্রগতি ও জটিল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তার ইরাকি সমকক্ষকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন। ওয়াশিংটনের সাথে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের এই অবস্থানকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, সার্বিক তদারকি এবং কৌশলগত ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ইরানের ওপরই ন্যস্ত রয়েছে। তাই এই স্পর্শকাতর নৌপথের বিষয়ে পশ্চিমা দেশ বা অন্য কোনো পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ, একতরফা সামরিক পদক্ষেপ কিংবা স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলবে। ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থল এই রুটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি অমান্য করে এখানে যেকোনো ধরনের একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা কেবল এই অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিকভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালুর চলমান প্রক্রিয়াকেও অনেক পিছিয়ে দেবে। বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহের প্রধান এই রুটের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরানের এমন দৃঢ় অবস্থান বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a comment