দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আগামী ২০ জুলাইয়ের পর কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। তবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে বর্তমানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ২০ জুলাইয়ের পর দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টিপাত বাড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায় ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য উপকারী হলেও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment