জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। এ ঘটনায় জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই জিডিতে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানা নামের আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) শাওনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টটি আর দেখা যায়নি। সমালোচনার মুখে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ১ জুলাই ফেসবুকে #জুলাইCDI হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেন শাওন। পোস্টটিতে তিনি হ্যাশট্যাগটির বিভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহারের বিষয় তুলে ধরেন। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে জুলাই আন্দোলনের প্রতি অবমাননাকর ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আনম আয়াস ও তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ আলম বাদশা জিডিটি করেন।
জিডিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শান্তা ফারজানা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক।
এ ছাড়া মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ভিডিওবার্তায় আন্দোলন সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন।
চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির বিরুদ্ধেও অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেছেন, যেখানে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও সংগঠনকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অনলাইনে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি সাইবার–সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা অভিযোগটি তদন্ত করছে।
Leave a comment