বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াইয়ে আটকে রাখাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা। তাঁর মতে, ফলাফলের চেয়ে বিশ্বমঞ্চে দলের সাহসী পারফরম্যান্স ও দুইবার সমতায় ফেরার মানসিকতাই দেশের ফুটবলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন, আফ্রিকার দল কেপ ভার্দে স্পেন, উরুগুয়ে কিংবা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারবে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে দলটি।
রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও তাদের লড়াকু ফুটবল কুড়িয়েছে ব্যাপক প্রশংসা।
নির্ধারিত সময়ে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে আবারও পিছিয়ে পড়লেও বিরতির আগেই দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরায় আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে না পারলেও তাদের আত্মবিশ্বাস ও সংগ্রামী মানসিকতা মুগ্ধ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের।
ম্যাচ শেষে বুবিস্তা বলেন, “আমার দল এবং পুরো কোচিং স্টাফকে নিয়ে আমি গর্বিত। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে এভাবে লড়াই করা, দুইবার সমতায় ফেরা এবং ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের দেশের জন্য বড় সম্মানের। সবচেয়ে বড় কথা, এটি গৌরবের পরাজয়। এই বিশ্বকাপে আমাদের চরিত্র ও লড়াইয়ের মানসিকতা দেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।”
শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই নয়, গ্রুপ পর্বেও স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। বিশেষ করে উরুগুয়ের বিপক্ষে পাওয়া এক পয়েন্ট দক্ষিণ আমেরিকার দলটির টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্পেন, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই তিনটি ম্যাচই ছিল কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম।
আফ্রিকান বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে অভিষেক আসরেই নজর কেড়েছে। চার ম্যাচে ৪ গোল করেছে তারা, বিপরীতে হজম করেছে ৫টি। তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও সাহসী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলই এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে এনে দিয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা।
Leave a comment