মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধ স্বীকার করে জরিমানা ও বিশেষ লাইসেন্সের শাস্তি পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার। মঙ্গলবার সিডনির ওয়েভারলি স্থানীয় আদালত তাঁকে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি আগামী ১২ মাস গাড়িতে ‘ইন্টারলক’ ব্রেথলাইজার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে ‘মাঝারি মাত্রার’ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ স্বীকার করেন ৩৯ বছর বয়সী ওয়ার্নার। এর আগে গত এপ্রিলে একটি ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় মদ্যপান পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে গিয়ে তিনি গাড়ি থামান। পরে তাঁর শ্বাস পরীক্ষা করা হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিচারক ক্লেয়ার ফারনান আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ার্নারকে ওই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং জরিমানার আদেশ দেন। শাস্তির অংশ হিসেবে তাঁকে ১২ মাস ‘ইন্টারলক’ লাইসেন্সে থাকতে হবে। এ ব্যবস্থায় গাড়ি চালানোর আগে তাঁকে একটি ব্রেথলাইজার যন্ত্রে ফুঁ দিতে হবে। অ্যালকোহলের উপস্থিতি শনাক্ত হলে গাড়িটি চালু হবে না।
ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইস আহমাদ আদালতে তাঁর মক্কেলের সিদ্ধান্তকে ‘বিবেচনাশক্তি হারানো, হঠকারী এবং সত্যিই বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, ওয়ার্নার নিজের ভুলের দায় নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ট্রাফিক অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি সংশোধনমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন।
ওয়ার্নারের আইনজীবী আরও বলেন, মামলাটি নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁর মক্কেলকে। ভবিষ্যতেও সাবেক এই ক্রিকেটারকে প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর আগে ওয়ার্নার তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন। এরপর পরিবারের বাড়ির উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে বের হন তিনি।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক ক্লেয়ার ফারনান সতর্ক করে বলেন, গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে একটি ভুল সিদ্ধান্তও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে এবার তাঁর ওই সিদ্ধান্তের কারণে অন্য কারও কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ওপেনার।
Leave a comment