জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান-এর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে প্রায় ১০ মিনিট অধিবেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, “কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না; করলে তা ডাবল অপরাধ।”
এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই শুরু করেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান সরকারদলীয় সদস্যরাও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্পিকারকে দাঁড়িয়ে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়।
স্পিকার বলেন, “সারা জাতি দেখছে, সংসদ লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী সংসদ না চললে এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।” তিনি সদস্যদের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্ক করেন, সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি ফজলুর রহমানের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান এবং বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমার পরিচয় ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, কোনো অসংসদীয় বক্তব্য থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করা হবে।
উল্লেখ্য, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সংসদের কার্যক্রম প্রায় ১০ মিনিট স্থবির হয়ে পড়ে।
Leave a comment