ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের চলমান বিশেষ অভিযানে বনদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর জেরে সম্প্রতি বাগেরহাটের জয়মনির ঘোল স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন এবং মোংলা বন্দরের নৌপথ সুরক্ষায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ও পেশাদার ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় পরিচালিত অভিযানে উপকূলীয় জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের কবল থেকে ৪১ জন বনজীবীকে উদ্ধার করে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এসব অভিযানের ফলে সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ তাঁর সহযোগীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে কোস্ট গার্ডের কঠোর অবস্থানের ফলে অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ায় তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অপরাধকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জয়মনির ঘোল এলাকায় নতুন স্টেশন স্থাপনের পর থেকে দস্যুদের রসদ সরবরাহ ও লজিস্টিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন জয়মনির ঘোল স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কোস্ট গার্ডের কয়েকজন সদস্য আহত হন। স্থানীয় বনজীবী ও বাসিন্দাদের দাবি, দস্যুদের আধিপত্য হারানোর ক্ষোভ থেকেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোনো ধরনের হামলা বা অপপ্রচার বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পারবে না। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ মাছ আহরণ ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল রুট সচল রাখার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। জয়মনির ঘোল স্টেশনে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Leave a comment