সর্বজিৎ চাকমা, রাঙামাটি
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন জানাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল ও গাড়িবহরের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এ আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত সমর্থক অংশ নেন।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, বিকেল চারটায় রাঙামাটি শহীদ মিনার-সংলগ্ন আব্দুস শুক্কুর স্টেডিয়ামে সমবেত হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর থেকেই সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন আর্জেন্টিনা ভক্তরা। দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি হলেও এতে সমর্থকদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। আর্জেন্টিনার জার্সি, পতাকা, ব্যানার ও বিভিন্ন সাজসজ্জায় স্টেডিয়াম এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বিকেল চারটা ২০ মিনিটের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল ও গাড়িবহরের শোভাযাত্রা শুরু হয়। শতাধিক মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে সমর্থকেরা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় আর্জেন্টিনার পতাকা উড়িয়ে এবং প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগান দিয়ে পুরো শহর মুখরিত করে তোলেন তাঁরা।
শোভাযাত্রাটি আব্দুস শুক্কুর স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে আসাম বস্তি, ভেদভেদীসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে রিজার্ভ বাজার পুরাতন বস্তি-সংলগ্ন সেতু এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনেকেই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
আয়োজকদের দাবি, এ কর্মসূচিতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন। রাঙামাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে এটি আর্জেন্টিনা ভক্তদের অন্যতম বড় সমাবেশ।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কয়েকজন সমর্থক বলেন, ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি তাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। বৃষ্টির কারণে কর্মসূচি স্থগিত করার কোনো চিন্তা তাঁদের ছিল না; বরং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন।
শোভাযাত্রা শেষে রিজার্ভ বাজার পুরাতন বস্তি-সংলগ্ন সেতু এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন সমর্থকেরা। এ সময় তাঁরা দলীয় পতাকা প্রদর্শন, ছবি তোলা এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, রাঙামাটিতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a comment