শিঙাড়া, সমুচা, চপ বা অন্যান্য তেলেভাজা খাবার অনেকেরই প্রিয়। তবে নিয়মিত এসব খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোর করে এসব খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে তেলেভাজা খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সন্ধ্যার দিকে অনেকেরই শিঙাড়া, ফুলুরি, চপ বা চাউমিন খেতে ইচ্ছা করে। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পেট ফাঁপা, অম্বল বা বুকজ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিলেও পরদিন আবার একই ধরনের খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো খাবার একেবারে নিষিদ্ধ না করে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ, কোনো খাবার জোর করে বাদ দিলে সেটির প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যেতে পারে। তেলেভাজা খেতে ইচ্ছা করলে বিকল্প হিসেবে ছোলামাখা, বাদাম, সেদ্ধ ভুট্টা বা ঢোকলার মতো তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত ক্ষুধা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সকাল থেকে নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং বিকেলের হালকা নাশতায় পর্যাপ্ত আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। ফলে সন্ধ্যায় তেলেভাজা খাওয়ার প্রবণতা কমে।
খাবারের প্রতি লোভ অনুভব করলে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়াও কার্যকর হতে পারে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া কিংবা পছন্দের কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে। অনেকের ক্ষেত্রে এক কাপ চা বা কফিও এ সময় বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তেলেভাজা খাবার খাওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড থেমে সেটির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা ভাবলে ধীরে ধীরে আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি হয় এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, মন খারাপ বা অবসাদ থেকেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়াম অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment